আজ ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস। বিশ্বজুড়ে তরুণদের অগণিত সম্ভাবনা, নানা সমস্যা, অধিকার ও সমাজে তাদের অবদানকে সামনে তুলে ধরাই এ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য। দিবসটি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণদের নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দেয়। যুব দিবস আমাদের বিশেষ করে শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়।
তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করে তাদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে বদলে যেতে পারে সমাজের চিত্র। কারণ একটি দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ যখন তরুণ, তখন সেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সহজেই অনুমেয়। নতুন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা, প্রতিকূলতাকে জয় করার সাহস এবং পরিবর্তনের প্রত্যয় সবকিছুর সম্মিলিত রূপ হলো যুবসমাজ।
বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা। প্রযুক্তির বিস্তার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল যোগাযোগ ও নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তরুণদের সামনে যেমন অসংখ্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, ঠিক তেমনি তৈরি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জও। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন, ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ তরুণদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি যুবসমাজের সামনে রয়েছে নানা বাধা। বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি, মাদকাসক্তি, অনলাইন আসক্তি, অপরাধপ্রবণতা, হতাশা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় তরুণদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একটি সম্ভাবনাময় তরুণ যখন সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে বিপথে চলে যায়, তখন শুধু একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। তাই তরুণদের সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা না করে তাদের কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তরুণদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শুধু সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে যুবসমাজ হতে পারে সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি যথাযথ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তারা দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। একজন তরুণের একটি ভালো উদ্যোগ, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঠিক কার্যক্রম কিংবা কয়েকজন তরুণের একটি সামাজিক আন্দোলনও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবর্তন কখনো একদিনে আসে না। ছোট ছোট উদ্যোগই একসময় সমাজে বিশাল পরিবর্তন সৃষ্টি করে।
তাই তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে দেখলে চলবে না; বর্তমান সমাজের পরিবর্তনেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়ানোর মাধ্যমে যুবসমাজের শক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব।
তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলতে হবে সহিংসতা, বৈষম্য ও মাদকমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ। আন্তর্জাতিক যুব দিবস শুধু তরুণদের নিয়ে কথা বলার একটি দিন নয়; এটি তরুণদের সম্ভাবনা নতুন করে উপলব্ধি করার এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে তরুণরা যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদের সেই অবদান মনে করারও দিন। তরুণদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিতে হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও তৈরি করে দিতে হবে।
তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক আরও সুন্দর, সম্ভাবনাময়, সহনশীল ও মানবিক সমাজ। ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনায় যুবশক্তির জাগরণ হোক। তারুণ্যের শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সুযোগ, সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের হাতেই তুলে দিতে হবে পরিবর্তনের দায়িত্ব। কারণ যুবশক্তির জাগরণেই সমাজ বদলায়।
কেএসকে
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/Lsr3OCw
via IFTTT

