ঈদের মাংস খাওয়ায় কিডনি রোগীর সতর্কতা জরুরি

কোরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার-পরিজনের মিলনমেলা আর নানা ধরনের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ করে গরু বা খাসির মাংস ছাড়া ঈদের খাবারের তালিকা যেন পূর্ণতা পায় না। তবে এই আনন্দের সময় কিডনি রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কারণ অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস খাওয়া কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং শারীরিক জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, যারা কিডনির সমস্যায় ভোগছেন, যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর, তাদের প্রোটিনজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়। তাই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ক্রমেই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারা বছরের মতো ঈদের সময়ও কম মাংস খাওয়া ভালো।

যারা কিডনির সমস্যায় ভোগছেন, যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর, তাদের প্রোটিনজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়। তাই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ক্রমেই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারা বছরের মতো ঈদের সময়ও কম মাংস খাওয়া ভালো।

কেন কিডনি রোগীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে অতিরিক্ত প্রোটিন, লবণ, চর্বি ও খনিজ পদার্থ শরীরে জমে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঈদের সময় সাধারণত অতিরিক্ত মাংস, তেল-মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ করে লাল মাংসে প্রচুর প্রোটিন ও পিউরিন থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ফোলাভাবের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কতটুকু মাংস খাওয়া নিরাপদ?

কিডনি রোগীদের একেবারে মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে, এমন নয়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প পরিমাণ চর্বিহীন মাংস খাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে একবারে ছোট একটি টুকরো বা পরিমিত পরিমাণ মাংসই যথেষ্ট। একদিনে বারবার মাংস খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে গরুর চর্বি, কলিজা, ভুঁড়ি কিংবা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ না খাওয়াই ভালো।

রান্নার ধরনেও থাকতে হবে সচেতনতা

ঈদের খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও মসলা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিডনি রোগীদের জন্য হালকা রান্না করা খাবার বেশি উপযোগী। মাংস রান্নার সময় কম তেল ও কম লবণ ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত ঝাল বা ভাজাপোড়া খাবার হজমের সমস্যাও তৈরি করতে পারে। গ্রিল, সেদ্ধ বা কম মসলাযুক্ত রান্না তুলনামূলক নিরাপদ। পাশাপাশি খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখা ভালো।

আরও পড়ুন: 

পানি পানের বিষয়ে সতর্কতা

অনেক কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে পানি পানের নির্দিষ্ট সীমা থাকে। তাই নিজের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত শরবত বা কোমল পানীয় পান করা ঠিক নয়। আবার কেউ কেউ কম পানি পান করেও সমস্যায় পড়েন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি গ্রহণ করা জরুরি। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত কিংবা প্রসেসড জুস এড়িয়ে চলাই ভালো।

যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

  • শরীর ফুলে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • প্রস্রাব কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • বমি বা বমিভাব
  • উচ্চ রক্তচাপ

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেন, তাদের খাবার তালিকা আরও নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার। ঈদের ব্যস্ততায় ডায়ালাইসিসের সময়সূচি যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া পটাশিয়াম ও ফসফরাস বেশি থাকে এমন খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সচেতনতাই পারে ঈদের আনন্দ ধরে রাখতে

ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হলে কিডনি রোগীদের খাদ্যাভ্যাসে সংযম ও সচেতনতা জরুরি। পরিমিত খাবার, নিয়ম মেনে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সাময়িক স্বাদের চেয়ে সুস্থ থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জেএস/



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/tnZMPlC
via IFTTT
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post