পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: দ্বিতীয় পর্ব

খৈয়াম কাদের

এই লেখায় আগেই বলা হয়েছে, নিখিলবাংলার প্রায় সকল প্রান্তেই আঞ্চলিক প্রবাদের অস্তিত্ব সদর্থেই বিরল ও দুর্লভ। কারণ কোনো বিশেষ একটি এলাকায় কোনো প্রবাদের জন্ম হলে এবং তার অর্থগত তাৎপর্য, ধ্বনিগত দ্যোতনা ও বাস্তবানুগ প্রয়োগ সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে উঠলে অতিদ্রুত তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, জনপ্রিয় হয়। এবং বৃহত্তর পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার ফলে তার জন্মস্থল ও জন্মকাল হারিয়ে যায়। সুতরাং প্রাচীন পুণ্ড্র-অঞ্চল এবং আধুনিককালের বৃহত্তর বগুড়া ও এর আশপাশের অঞ্চলসমূহের প্রবাদ হিসেবে যেসকল প্রবাদ এখানে তুলে ধরা হয়েছে; সেসব হয়তো দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও যথারীতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমাদের যুক্তি ও দাবি হলো, এগুলো আমাদের নির্বাচিত অঞ্চলে সর্বমহলে প্রচলিত এবং জনপ্রিয়। এরকম অতি-সুবিদিত কিছু প্রবাদের একটি সংক্ষিপ্ত সূচি-পর্যাণ এখানে উপস্থাপন করা হলো। স্মর্তব্য, লেখার কলেবরগত সীমাবদ্ধতা হেতু উপস্থাপিত প্রবাদগুলোর অর্থগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ পরিবেশন করা সম্ভব নয়। ক্ষেত্রবিশেষে শুধু ভাবার্থের ইঙ্গিত প্রদান করা হলো।

প্রবাদসমূহ

• চ্যাঙ উজায় ব্যাঙ উজায় খইলসা কয় আমিও উজাই।
> চ্যাঙ এবং খইলসা বিশেষ শ্রেণির মাছ। এরা কেউই স্রোতের উল্টোদিকে উজাতে পার না। প্রবাদটি সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনাবর্তী মানুষদের মাঝে বেশি প্রচলিত। এর ভাবার্থ হলো কিছু কিছু অযোগ্য বা অক্ষম মানুষ হাস্যকররূপে নিজেকে সক্ষম হিসেবে প্রদর্শনের ভাব দেখায়।

• ভাও বুঝে নাও বাও।
> ভাও শব্দের অর্থ দামদর বা অবস্থা। এখানে বলা হয়েছে আবহাওয়া এবং নদীর স্রোত ও ঢেউ বুঝে নৌকা চালাতে হয়। তবে এ অর্থ প্রতীকী।

• সাঁতারের উপর পানি নাই।
> অর্থাৎ বিপদ বা সংকট চরম আকার ধারণ করলে তাকে সাথে নিয়েই চলতে হয়।

• বুঝলে মধু না বুঝলে কদু।
> কোনো ব্যক্তি বা জিনিসের গুরুত্ব বুঝতে পারা না পারার বিষয় ইঙ্গিত করা হয়েছে।

• বেলা থাকতে হাঁইটা যাইও, হাতে থাকতে রাইখা খাইও।
• আয় বুইঝা ব্যয় করে, কভু না অভাবে পড়ে।
> সময়ানুবর্তিতা ও মিতব্যয়ীতা বিষয়ক উপদেশনা।

• ল্যাংটার কোনো বেসামাল নাই।
> লজ্জাহীন বা ভয়হীন লোকের লজ্জিত বা ভীতু হওয়ার চিন্তা থাকে না।

• মাইগের কথায় চলে, পড়ে সবার তলে।
> মাইগ কথাটি স্ত্রী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। চিরায়ত গ্রামীণ সমাজে কোনো পুরুষ মানুষ স্ত্রীর পরামর্শে চললে অন্যরা তাকে অবজ্ঞা এবং উপেক্ষা করতো।

• শক্ত মর্দের দক্ষিণ দুয়ারি ঘর।
> মর্দ পুরুষবাচক শব্দ। এখানে পুরুষের পৌরুষকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

• আন্ধার ঘরে সাপ, সারা ঘরেই সাপ।
> কোনো উৎসহীন শঙ্কা বা সন্দেহ মানুষকে সর্বোতভাবে উদ্বিগ্ন রাখে।

• প্যাটের ছৈলের আশে, কোলের ছৈল পেষে।
> ভবিষ্যতের কোনো কল্পিত বড়র আশায় বর্তমানের সাধারণকে ত্যাগ করা।

• নাইয়ার এক নাও নি-নাইয়ার শত নাও।
> এই প্রবাদটিও নদীর্বর্তী অঞ্চলেই বেশি চলে। এর অর্থ প্রতীকী ও ব্যঙ্গার্থক দু’রকমেরই হতে পারে এবং তা বহুমুখী।

• আঁড়া মোচরাতে না পেরে বাড়া মোচরায়।
> আঁড়া হলো ঝোপঝাড়ের মধ্যকার একধরনের খাগড়া জাতীয় প্ল্যান্ট। বাড়া শব্দটির দ্বারা পুরুষের যৌনাঙ্গকে বোঝানো হয়। এ প্রবাদের অর্থ প্রতীকাশ্রিত। সামাজিকভাবে শক্তি বা ক্ষমতাহীন কোনো মানুষ যদি ক্ষমতাবান কারোর দ্বারা অপমানিত, লাঞ্ছিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে তার প্রতিকার করতে পারে না, প্রতিশোধ নিতে পারে না। কিন্তু সে রাগান্বিত এবং ক্ষুব্ধ হয়। তখন অতি তুচ্ছ কোনো কারণে বা অকারণেই সে তার সঞ্চিত ক্ষোভটি তার থেকে দুর্বল কোনো মানুষের ওপরে ঝেরে দেয়।

• যার মনে যা ফালদে ওঠে তা।
> এর অর্থ হলো কোনো কোনো মানুষ নিজের মনের কোনো সংশয় বা আকাঙ্ক্ষা অন্যের মনে সন্ধান করে।

• ছ্যাড়ার বুদ্ধি গলাত বুড়ার বুদ্ধি তলাত।
> অর্থ- অভিজ্ঞতার অভাববশত কমবয়সী তরুণ-যুবকদের বুদ্ধি থাকে হালকা। পক্ষান্তরে জীবন সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার কারণে বয়সী মানুষদের বুদ্ধি হয় পাকা ও ভারি।

• ঠোসা ঢেকির বাইজ বেশি।
> মানে নির্বোধ ও অপদার্থ মানুষের চাপার জোর বেশি হয়।

• ভরা কলসি নড়ে কম, খালি কলসি নড়ে বেশি।
> অর্থ- অভিজ্ঞ, জ্ঞানী ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ বলে কম, চটে কম কিন্তু ভাবে বেশি। অন্যদিকে জ্ঞানহীন, বুদ্ধিহীন মানুষ বকে বেশি, চটে বেশি।

• দড়িছেঁড়া গরু।
> অনিয়ন্ত্রিত, উচ্ছৃঙ্খল মানুষ।

• হাউসে বিদ্যা কৃপণে ধন।
> একসময় কৃষক পরিবারের সন্তানকে কৃষিকাজে নিয়োজিত করা হতো সংসারের আয় বাড়ানোর জন্য। তবে বিদ্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম কোনো কোনো পিতা বা অভিভাবক সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতেন। বিষয়টিকে তখনকার সমাজে হাউস বা শখ বলে বিবেচনা করা হতো।

• না পায়া নাতি ভাতার নাতি দেয় গাঙ্গে সাঁতার।
> এই প্রবাদের ভাষা খানিকটা অশ্লীল শোনালেও এর মর্মার্থ বেদনাদায়ক।

• কথার বেলা ঝনঝন কাজের বেলা ঠনঠন।
> বাকোয়াজ বা বাচাল মানুষ, যারা কথায় টনটনা কিন্তু কাজে শূন্য।

• যে কথাই কও পাছে বেড়ারও কান আছে।
> অর্থাৎ কোনো গোপনতাই গোপন থাকে না।

• কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।
> যে মানুষ অস্থিমজ্জায় মন্দ কোনো উপদেশ-পরামর্শই তাকে শোধরাতে পারে না।

• আছিলাম ধান হইলাম খই, দিনে দিনে আরও যে কী হই।
> মানব জীবনের অনিবার্য অথচ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

• লাইত্থানো গাইয়ের দুধ মিঠা।
> কিছু কিছু বদরাগী মানুষ খুব পরোপকারী হয়ে থাকে।

• মিষ্টি কথায় চিড়া ভেজে না।
> কথা মিঠা হলেও তা দিয়ে কখনো কখনো উদ্দিষ্ট মানুষের মন গলানো যায় না। বরং তাকে খুশি করার জন্য বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন হয়।

• জলে না নামিলে কেহ শেখে না সাঁতার, হাঁটিতে শেখে না কেহ না খেয়ে আছাড়।
> অনুপ্রেরণা বা উৎসাহব্যঞ্জক কথা।

• অর্ধেক কইলে মর্দ্দে বোঝে, ভাইঙ্গা কইলে মাইগও বোঝে।
> কোনো রহস্যঘেরা কথা বুদ্ধিমানেরা ইঙ্গিতেই বুঝতে পারেন। কিন্তু অমি মানুষকে বুঝানোর জন্য তা পুরোটা খুলে বলতে হয়।

• ভাবেতে মজিল মন কী-বা হাড়ি কী-বা ডোম।
> মানুষের আবেগজাত প্রেম কোনো জাতপাত মানে না।

• ভিক্ষা চাই না মা কুত্তা ঠেকাও।
> মানে উপকার করতে না পারলেও বিপদের দিকে ঠেলে না দেওয়ার আকুতি।

• দশের লাঠি একের বোঝা।
• দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।
• দশের ডাকে ভগবান অস্থির।
> এখানে দশ বলতে সমস্ত বা সকলকে বোঝানো হয়েছে এবং সম্মিলিত কাজকে অধিকতর কল্যাণকর হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

• জামির (লেবু) বেশি চিপলে তিতা হয়।
> অর্থাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বারংবার আওড়াতে থাকলে সে বিষয়ে জনমনে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়।

• বিল নষ্ট করে পানা, দিল নষ্ট করে কানা।
> আবর্জনা যেমন পরিবেশ নষ্ট করে, অর্বাচীন মানুষ তেমন সমাজ-মানস এবং মানব-পরিবেশ নষ্ট করে।

এ রকম আরও অসংখ্য প্রবাদ বৃহত্তর বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে মানুষের মুখে মুখে চলে। যেমন- খুদকুঁড়া যে না বাছে তার কপালে ভাত আছে, তোলা ভাতে পোলা বাঁচে না, ফল পাকলে মিঠা মানুষ পাকলে তিতা, যৎমৎ দুই ভাই যৎমৎ দুই গাই, হাঁ করলেই বত্রিশ নাড়ী গোনা যায়, পরের জন্য গাত খোড়ে সেই গাতে নিজেই পড়ে, দশদিন চোরের একদিন সাবুদের, বল বল নিজের বল ভাইয়ের বল পাছে ঘরে যদি ভাত থাকে তো বউয়ের বলও আছে, কলিকালের পোলাপান মায়েরে কয় কুটনি বুড়ি বউরে কয় সোনার চাঁন, এক দুলালির সাত শাড়ি তাও দুলালির মন ভারি, একে তো নাচুনি বুড়ি তার ওপরে ঢাকে বারি, বউ আসার আগকালে মা-ই সেরা নারী বউ আসলে মায়ের কথা অতি বাড়াবাড়ি, খাইলে জাত যায় না কইলে জাত যায়, ঘাসে বলদ ভাতে মরদ, যদি থাকে মনে থাক না সে রাজ্যের কোণে, যা পাই তা-ই খাই আমার কোনো খিদা নাই, দুই নায়ে পাও দেয় কোনো কূল নাহি পায়, এক মজলিস খায় না দুই মজলিস পায় না, পেটে খাইলে পিঠে সয়, জাত যায় না মরলে খাসলত যায় না ধুইলে, কাঠ খাইলে অঙ্গার হাগতে হয়, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর অতি বড় ঘরনি না পায় ঘর, আগে গেলে বাঘে খায় পিছে গেলে সোনা পায়, চাম নাই কুত্তার নাম বাঘা, যার বিয়া তার খবর নাই পাড়াপড়শির নিন নাই, ভাত দেওয়ার মুরোদ নাই কিলের বেলা গোসাই, হাতিঘোড়া গেলো তল মশা বলে কত জল, মজা মারে ফজা ভাই আমরা শুধু নাও বাই, লোম বাছতে কম্বল উজাড়, অতি চালাকের গলায় দড়ি, অতি ভক্তি চোরের লক্ষ্মণ, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, নিজে বাঁচল বাপের নাম, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা, উলু বনে মুক্তা ছড়ানো, এক ঢিলে দুই পাখি মারা, রথ দেখাও হয় কলা বেচাও হয় ইত্যাদি।

কিন্তু আমাদের বক্তব্য আগের মতোই। ইঙ্গিতি উপদেশনা, ব্যঙ্গ-ভর্ৎসনা তথা সমাজ-বাস্তবিক ভাবচেতনামূলক এই প্রবাদ-প্রবচনগুলো অখণ্ড বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত-লোকায়ত ঐতিহ্য। খনা ও ডাকের বচনের মতো এসব প্রবাদ-প্রবচনও নিখিল-বাংলার সর্বসমাজে সমভাবে প্রচলিত, জনপ্রিয় এবং জনমানসে ভাবচৈন্তিক প্রভাব সঞ্চারে সক্রিয়। সুতরাং অমীয় স্বাদ-আস্বাদ ও প্রতীকার্থিক ধ্বনি-দ্যোতনায় সমৃদ্ধ এ প্রবাদ-প্রবচনগুলোকে সংকীর্ণ স্থানিকতা ও কালিকতায় আবদ্ধ করা সমীচীন নয়, সম্ভবও নয়।

ছড়াসমূহ

বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে আধুনিক ছড়া সাহিত্যের ইতিহাস সমীহযোগ্য ঐতিহ্যের স্মরণপাঠ। বগুড়ায় ছড়াচর্চা আন্দোলনে নতুন বাঁক সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘বগুড়া ছড়া সংসদ’-এর মুখপত্র ‘ছররা ছুট্’-এর ভূমিকা মাইলফলকস্বরূপ। এ সংসদের সভাপতি ছিলেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সেইসময়কার বাংলার অধ্যাপক মোস্তফা নূরউল ইসলাম। ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি বছর একটি করে ‘ছররা ছুট্’-এর মোট চারটি সংখ্যা বেরিয়েছিল। সংখ্যাগুলোর পর্যায়ক্রমিক সম্পাদক ছিলেন- মোস্তফা নূরউল ইসলাম ও মাহমুদ হাসান; আফরূজ জাহান ও আইনুন নাহার জেবু; মনজু রহমান ও রায়হান রাহমান। তবে ‘ছররা ছুট্’ প্রকাশনার মূলে একান্তভাবে জড়িত ছিলেন মাহমুদ হাসান ও নিলুফার বেগম নীলা। ‘ছররা ছুট্’-এ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অনেক প্রবীণ-নবীন ছড়াকারের লেখা ছাপা হতো। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- মযহারুল ইসলাম, রফিকুল হক, তপংকর চক্রবর্তী, আব্দুর রহমান, মসউদ উস শহীদ, রেজা রায়হান বুলবুল, হানিফ সংকেত, কামরুন নাহার বাবলী, আসুরা মজিদ, শংকর মিত্র, মোস্তফা নূরউল ইসলাম, আবু সালেহ, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক ফয়সল, আফরূজ জাহান, নিরঞ্জন দেব, শাহাবুদ্দীন নাগরী, আলতাফ আলী হাসু, জহুরুল আলম ঝরা, আইউব সৈয়দ, মাহমুদ হাসান, এনায়েত রসুল, স্বপ্নুল ইসলাম রাহা, মোসলেহ্ উদ্দিন বাবুল, সূর্য, সরোদ রহমান, নিলুফার বেগম নীলা, মাহবুব কবীর, শ্যামল চক্রবর্তী, আইনুন নাহার জেবু, রোসতম আলী মনজু (মনজু রহমান), মোসতাফিজার রহমান মোসতা, আইভী চৌধুরী, আ.খ.ম. শাহজান বাচ্চু, সৈয়দ আমির আলী প্রমুখ। এ তালিকার ছড়াকারদের মধ্যে যারা বগুড়ার; তাদের কয়েকজনের একটি করে ছড়া নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

মোস্তফা নূরউল ইসলাম (১৯৪৩-বর্তমান)

চশমা নিলো কানা ছুঁচো
লাঠি নিলো শেয়াল
বুড়াবুড়ির ভারী ভাব
মধ্যিখানে দেয়াল।
কলার ঘরে ঠাকুর থাকে
পুরোহিত রাঁধে পোলাও
খোকার হাতে এ্যাটমবোম
শহর ছেড়ে পালাও।

আব্দুর রাজ্জাক (১৯৫৪-বর্তমান)

আমড়াকাঠের ঢেঁকি যেন
সিদ্ধ পুরুষ সবাই
নিজের ছেলে বোকা বানায়
বিদ্যা করে জবাই।
কাগজ কাগজ পাশা খেলা
লবণ মরিচ তেলে;
এসব কথা বলতে গেলেই
দেয় যে পুরে জেলে।

ফারুক ফয়সল

এই যে শুনুন রাজা মশাই এই
পা চাটবো গাধা ঘোড়ার এমন বোকা নই
মারবে নাকি লাঠির ঘায়ে, তাতেও আছি সই
পিষবে তুমি এই নগরী এমন রোলার কই?

আফরূজ জাহান

গিয়েছিলুম একদিন হাইকোর্ট মাজারে
কল্কেতে বেসামাল ওহ ডিয়ার গাঁজারে!
দম মেরে মনে হয় যেন আমি জমিদার
যা খুশি ভেবে যাই পাত্র নই দমিবার
মুড নিয়ে হেঁকে বলি পাল্কিটা সাজারে।

নিরঞ্জন দেব

ফেস্টুনেতে কেষ্ট বাবুর
চিত্র ছিল আঁকা
লম্বা ঠোঁট লম্বা নাক
চোখটা কিছু বাঁকা।
তুড়ি মেরে ভুঁড়ি নাচান
নাচান পুলিশ দারোগা
কালো টাকা ছিটিয়ে বলেন
যা খুশি তা করেগা।
ফেস্টুনেতে কেষ্ট বাবুর
সবকিছু আজ ফাস্
এখন বুড়ো কেষ্ট বাবুর
জেলখানাতে বাস।

আলতাফ আলী হাসু (১৯৫০-২০০০)

শত্রুদের শত্রুতার কোথায় উৎপত্তি
মহাজনী কায়দা দেখো দরদ একরত্তি।
বন্ধু সেজে ছুরি হানো দেশটা উৎকর্ণ
ধর্ম বিভেদ বাইরে শুধু রক্ত একই বর্ণ।
রক্ত ঝরায় বিভেদ নীতি সমাজ করে খণ্ড
ফাঁকা বুলির গোত্রটানে কূপমণ্ডূক ভণ্ড।
আতঙ্কিত সভ্যতা, শিল্প আর কৃষ্টি
সাধারণকে করতে হবে এর প্রতিরোধ সৃষ্টি।

জহুরুল আলম ঝরা

বর্গি এলো বর্গি এলো
আগল তুলে দে
দেখ্ চেয়ে দেখ্ ভরা গোলায়
আগুন জ্বলেছে।
ছোট্ট খোকন বললো হেঁকে
আগুন লাগায় কে
তোরা সবাই ঘরে ঘরে
শান্তি এনে দে।

মাহমুদ হাসান (১৯৫৫-বর্তমান)

সাবাস দালাল সাবাস
লোক দেখানো দেখাস
তোরাই ভাষার প্রেমিক
দেশ গড়ানোর শ্রমিক
আর কতদিন করবি
মরবি এবার মরবি।
শোনরে দালাল শোন
কান পেতেরে শোন
মায়ের ভাষা ছাড়া
কইবে কথা যারা
ইংরেজি সব বুলি
উড়িয়ে দেবো খুলি
ছাড়রে দালাল ছাড়
শখের ভাষা ছাড়
ধররে দালাল ধর
মায়ের ভাষা ধর
ভাঙবো নইলে ঘাড়
কণ্ঠনালীর হাড়।

সরোদ রহমান

লাল ফুলটা যখন শেখায়
দেশকে ভালোবাসতে
নতুন ভোরের সূর্যালোকে
সবার কাছে আসতে।
লাল ফুলটা ছোট্ট শিশুর
সবুজ অবুঝ ভাষা
দু’চোখেতে শিমুল ডালে
আগুন দেখার আশা।
লাল ফুলটা একুশ ভোর
উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালায়
রক্ত দেবার শপথ ভাসে
স্মৃতির আলোর মালায়।

নিলুফার বেগম নীলা

ছুট্ ছুট্ ছররা
দশ হাঁড়ি ভররা
ছররার তেজেতে
গড়াগড়ি মেঝেতে

রোসমত আলী মনজু (মনজু রহমান, ১৯৫৬-বর্তমান)

চম্পা বনে কনকচাঁপা
শিউলি বনের সনে
ঊষার বনে দমকা হাওয়া
এলোমেলো বইছে মনে।
চড়ুই পাখির ছোট্ট নীড়ে
বাবুইপাখির নিত্য আসা
কিচিরমিচির শব্দ ক’রে
বোঝায় তাদের মনের ভাষা।

আইভি চৌধুরী

তাক ধিন্ ধিনতা
নেই কোনো চিন্তা
পেট ভরে বাতাসে
নয়তো গো যা-তা সে
গা ঢাকি যে বাকলে
গরু ভেড়া ছাগলে
সকলের এক রা
নেই কোনো ফ্যাকড়া।

আ.খ.ম. শাহজাহান বাচ্চু

তোমার আমার এই জীবন
সবচে প্রিয় সবচে আপন
বলতে পারো কিসে?
সূর্য সেথায় ঝলমলিয়ে
চাঁদের আলো কলকলিয়ে
নদীর জলে মিশে।
কি অপরূপ পাগল করা
তার দেহেরই শ্যামল বেশ
জন্মভূমি বাংলা সে যে
মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

চলবে...

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাবেক উপাধ্যক্ষ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।

এসইউ



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/RKzhrIW
via IFTTT
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post