‘তাকে দলেই রাখতাম না, অধিনায়ক তো দূরের কথা’- কার কথা বললেন আফ্রিদি?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬- এ ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা উদযাপনের মধ্যেই পাকিস্তান শিবিরে চলছে হতাশা আর নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা। সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর দলটি সমালোচনার মুখে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অধিনায়ক পরিবর্তন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি কড়া সমালোচনা করলেন অলরাউন্ডার শাদাব খানের।

গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হারের পর সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয় পাকিস্তানকে চাপে ফেলে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারাতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা। পাল্লেকেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ২২১ রান তুলেছিল। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো; কিন্তু লঙ্কানরা ৬ উইকেটে ২০৭ রান করে পাঁচ রানের জয় তুলে নেয়, আর তাতেই পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়।

এমন ব্যর্থতার পর সংবাদ সংস্থা পিটিআই’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে শাদাব খান ও শাহিন আফ্রিদির নাম উঠে আসে।

তবে সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শহিদ আফ্রিদি শাদাবকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তার পারফরম্যান্স দেখলে আমি তাকে দলে রাখতামই না, অধিনায়ক করা তো দূরের কথা।’ টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে শাদাবের সংগ্রহ ছিল ১১৮ রান ও ৫ উইকেট- যা প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি।

তিনি আরও বলেন, ‘মাইক হেসন যদি কোচ হিসেবে থেকে যান- তিনি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে ছিলেন, পরে পাকিস্তানের কোচ হয়েছেন, সেখান থেকেই শাদাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক। হেড কোচ শাদাবকে বারবার সুযোগ দিচ্ছেন। তাই বলেছিলাম, সে পরের অধিনায়ক হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে সে একাদশে জায়গা পাওয়ারই যোগ্য নয়।’

নেতৃত্বের অস্থিরতাও পাকিস্তানের সমস্যাকে বাড়িয়েছে। গত এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে চারজন অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে দলটি। গত বছর আগা দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম বিশ্বকাপেই সাত ইনিংসে মাত্র ৬০ রান করেন, গড় ছিল ১০.০০- যা অধিনায়ক হিসেবে হতাশাজনক।

ভবিষ্যতের জন্য আরও আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব চান আফ্রিদি। তার পছন্দ ওপেনার ফাখর জামান। আফ্রিদি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি ফাখর জামানকে বেছে নিতাম। আমি একজন আক্রমণাত্মক অধিনায়ক চাই। এই মুহূর্তে সেই যোগ্যতা শুধু ফাখরের মধ্যেই দেখি।’

সব মিলিয়ে সুপার এইট থেকে বিদায়ের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। অধিনায়কত্বে নতুন মুখ আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আইএইচএস/



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/i82cPN5
via IFTTT
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post