বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ৪৮ বছরের পথচলায় বিএনপি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি বলে মনে করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও তাই মনে করেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠাই ছিল বিএনপি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে দেশ চালাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এরই মধ্যে এই সরকারের ছয় মাস অতিবাহিতও হয়েছে। ছয় মাসে সরকারের সফলতা, দল হিসেবে বিএনপির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, আদর্শের ধারাবাহিকতা, পররাষ্ট্রনীতি—এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।
জাগো নিউজ: বিএনপি যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৪৮ বছরে সেই আদর্শ কতটা ধরে রেখেছে? আদর্শ থেকে কতটা বিচ্যুতি হয়েছে?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তার পেছনে মূল ঘটনা ছিল একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন দেশ। এই দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা—এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি থাকবে—কোনো দিকে ঝুঁকে পড়া নয়। নিজের দেশের স্বার্থের জন্য, দেশের সম্মানের জন্য যেটা প্রয়োজন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হবে।
‘আর এই দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতি—এ সবকিছু আমরাই নির্ধারণ করব। এ দেশের মানুষের রায়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপি দলটি নিবেদিত থাকবে, যত বছর এই দলের অস্তিত্ব থাকবে।’
মোট কথা, সংক্ষেপে বলতে গেলে এগুলোই ছিল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিএনপি সে পথে অটল থেকেছে।
এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেবের হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায়, মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখে মৃত্যুবরণ করানোর প্রচেষ্টা হয়েছে। তারপর তিনি এ দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে এবং দেশের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে তিনি অটল ছিলেন।
জাগো নিউজ: বর্তমান নেতৃত্বের সময়েও কি সেই আদর্শের ধারাবাহিকতা রয়েছে?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বর্তমানে যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারেক রহমান সাহেবও সারাদেশ ঘুরে ঘুরে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলেন। তৃণমূল মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। বর্তমানে আবার কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের কিছু ঋণ মওকুফ করেছেন। নতুন করে স্পোর্টস চালু করেছেন। পিতা যেমন করেছিলেন, তিনি নতুন করে স্পোর্টস চালু করেছেন। তারপর ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের যারা গুরু, তাদের সম্মান দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
‘এরকম করে দেখতে গেলে দেখা যাবে, এই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে প্রতিধ্বনি, সেই কাজগুলো বিএনপির পক্ষে শুরু থেকেই করার অঙ্গীকার ছিল—১৯ দফায়, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা, যেটা পরে ৩১ দফা হয়েছে।’
তিনি বলেন, সেই জায়গায় বিএনপি স্থির আছে। বরং ধীরে ধীরে বিএনপির নেতাকর্মী ও অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের মধ্যে সমর্থন বেড়েছে এবং সারা পৃথিবীতেও বিএনপির একটা নতুন করে সম্মান সৃষ্টি হয়েছে।
আলাল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে এই জিনিসগুলো মোটামুটি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, বিএনপি যে আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই ধারা বজায় রেখে এখন পর্যন্ত সেই পথেই এগোচ্ছে।
জাগো নিউজ: সামনে বিএনপির কী কী চ্যালেঞ্জ দেখেন?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপির সামনে যে চ্যালেঞ্জ, সে চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে—যারা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা এখানে চালু করে রেখে গিয়েছিল, তাদের কিন্তু কিছু কিছু অনুচর এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। প্রশাসনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, শিক্ষাঙ্গনে, রাজনীতিতে, বিভিন্ন জায়গায়, সাংবাদিক জগতেও। এদের সম্পর্কে সজাগ থাকা, সচেতন থাকা, মানুষকে সজাগ রাখা।
‘আর আগামীদিনে তরুণদের মধ্য থেকে, যুবকদের মধ্য থেকে নেতৃত্বের কাঠামো তৈরি করা, যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কখনো আর পথভ্রষ্ট না হয়, বাংলাদেশে কখনো আর গণতন্ত্রহীন অবস্থা তৈরি না হয়।’
জাগো নিউজ: বর্তমান সময়ে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কী?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: এই মুহূর্তে গ্যাস এবং বিদ্যুতের যে সংকট, এটা বিএনপির সামনে একটা বড় কঠিন পরীক্ষা সামনে এনে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য খুব সুপরিকল্পিতভাবে কিছু কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। এসব জিনিসের ব্যাপারে একটা সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপি যদি এগোতে পারে, তাহলে চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তর বিএনপির পক্ষে সহজ হবে।

ছয় মাসে সরকার ভিন্ন কিছু দেখাতে পারেনি
তিনি বলেন, মানুষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি পথ হারিয়েছে—এই কথাটা এখন পর্যন্ত আসেনি। মানুষ বুঝতে পারছে যে সমস্যাগুলো তারা ভোগ করছে, সে সমস্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
জাগো নিউজ: সরকারের বয়স এখন ছয় মাস। এই সময়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন কতটা সম্ভব?
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া আবর্জনা-জঞ্জাল, যা কিছু ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করতেই তো আমাদের অনেক সময় চলে যাচ্ছে। আর সরকারের বয়স তো মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে আর কতটুকু কী করা সম্ভব হবে—এই বাস্তবতা তারা বুঝতে পারবেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে এ সমস্যাগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা সমাধান করতে সক্ষম হব।
জাগো নিউজ: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, দলের আদর্শ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আপনার মূল্যবান ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য আমাদের পাঠকদের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।
কেএইচ/ইএ
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/zUWsHgo
via IFTTT


