সকালের চেনা ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ কোনো নবজাতকের কান্নার শব্দ পায় তাসলিমা আক্তার। বাড়ির পাশের ঝোপে এগোতেই চোখ আটকে যায় তার। ওড়নায় প্যাঁচানো অবস্থায় পড়ে আছে এক ফুটফুটে নবজাতক কন্যাশিশু।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ফেনী পৌরসভার উত্তর চাড়িপুরের মুন্সিবাড়ি এলাকায় ঘাসের বুকে ওড়নায় মোড়ানো নবজাতকের কান্নার শব্দে তীব্র মমত্ববোধ অনুভব করেন তাসলিমা আক্তার।
ঘটনার পরপরই তাসলিমা ও তার স্বামী আব্দুল আউয়াল রাজু জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) বর্তমানে সেবিকাদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে এক থেকে চার দিন বয়সী এই শিশুটি।
দুই ছেলের মা তাসলিমা আক্তার শিশুটিকে উদ্ধার করেই ক্ষান্ত হননি, তাকে নিজের সন্তান হিসেবে আপন করে নিতে চান। যা তৈরি করেছে ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়।
হাসপাতালের এনআইসিইউর সামনে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা তাসলিমা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমার ঘরে দুটো ছেলে আছে, কোনো মেয়ে নেই। পরম করুণাময় হয়ত আমার কোল আলো করতে পাঠিয়েছেন। পরিবারের সবার সম্মতিতে আমি মেয়েটিকে স্থায়ীভাবে নিজের করে নিতে চাই।
হাসপাতাল চত্বরে এখন শুধুই মমতা আর প্রার্থনার আবহ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'কুইক রেসপন্স টিম'-এর সদস্যরা শিশুটির সেবা ও ওষুধপত্রের জোগান দিচ্ছেন। সংগঠনের সংগঠক সুলতান মাহমুদ জয় জানান, তাসলিমার পাশাপাশি আরও অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে আবেগ আর আইনের মেলবন্ধন ঘটবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারণ করা হবে শিশুটির ভবিষ্যৎ ঠিকানা।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক সাজিদ কামাল জানান, শিশুটি কীভাবে সেখানে এলো তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঝোপ থেকে কুড়িয়ে আনা সদ্যোজাত শিশুটি এখন ফেনীর একটি পরিবারের বুকে ভালোবাসার নতুন প্রদীপ জ্বালানোর অপেক্ষায়।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেজে/জেআইএম
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/1sUeWyQ
via IFTTT