মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি নিয়ন্ত্রণহীন লরির ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং তার ২৫ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে জালান সুলতান ইসমাইলের মাজু জাংশনের ট্রাফিক সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও আইন প্রয়োগ বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা জানান, কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন অফিস থেকে চৌকিট এলাকায় যাচ্ছিল লরিটি। ওই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে আসার জন্য লরিটি সেখানে যাচ্ছিল।

সরকার বদলেছে, রাষ্ট্র কি বদলেছে?
তিনি বলেন, লরিটি ট্রাফিক সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় সংশ্লিষ্ট লেনে লাল বাতি জ্বলছিল। তবে লরিটির বীকন লাইট ও সাইরেন চালু ছিল। একই সময়ে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চালিত প্রোটন সাগা গাড়িটি সবুজ সংকেত পেয়ে মোড়টি অতিক্রম করছিল। লরিটি আসতে দেখে গাড়ির চালক সময়মতো এড়াতে না পারায় মোড়ের মাঝখানে দুই যানবাহনের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর লরির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি সড়কের পাশে ছিটকে গিয়ে চার পথচারীকে চাপা দেয়। ওই চারজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। এছাড়া লরিটি একটি ইনোকম ম্যাট্রিক্স গাড়িকেও ধাক্কা দেয়, যা ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের স্ত্রী ও মা, ৫৫ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথা, ডান হাত ও দুই পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুয়ালালামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামজুরি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি গাড়ির চালকের কেউ আহত হননি। তবে লরির চালক ও প্রোটন সাগার চালককে তদন্তের স্বার্থে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুই চালকের অ্যালকোহল শনাক্তকরণে শ্বাস পরীক্ষা এবং প্রাথমিক মাদক পরীক্ষার ফল নেতিবাচক এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্ত এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় মামলা তদন্ত করা হচ্ছে।
এমআরএম
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/slkjtIH
via IFTTT