বাগেরহাটে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন প্রায় ৪ হাজার কৃষক

সোনালি রোদে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হাসছে সূর্যমুখী। সেই হাসিতে প্রাণ জুড়াচ্ছে কৃষকের। উৎপাদন খরচ কম, কম সময়ে ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন বাগেরহাটের কৃষকেরা। একই সাথে মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। জেলার কচুয়া উপজেলার শ্যানপুকুরিয়া গ্রামে দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষাবাদ হয়েছে সূর্যমুখী।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় এবার ৬১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন ৩ হাজার ৮০০ কৃষক। লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় বাগেরহাটের মাটিতে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, ডিসেম্বর মাসে সূর্যমুখী বীজ রোপণ শুরু হয়। মাত্র ৪ মাসের মাথায় এপ্রিলের শেষদিকে কাটা হয় সূর্যমুখী। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই তেল পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। দামও কেজি প্রতি ৪০০ টাকা।

bagherhat

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘ধান, ভুট্টা, সরিষা থেকে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। এতে খরচও কম। আমি মাঠে অন্যান্য ফসলের কাজ করি। সূর্যমুখী চাষে পরিশ্রম কম হওয়ায় বাড়ির গৃহিণীরা সব কাজ করতে পারেন। সূর্যমুখীর এই ফসলের বেশিরভাগ কাজ আমার স্ত্রীই করেন।’

ছবি মৃধা নামের এক কৃষাণি বলেন, ‘আমরা তিন বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এর ফলন ভালো। এইটা চাষ করে আমরা খুব লাভবান হইছি। সূর্যমুখীর এই তেলে অনেক পুষ্টিগুণ আছে। তাই সারাবছর আমরা নিজেরাই এইটা ব্যবহার করি। পাশাপাশি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। এই তেলের অনেক চাহিদা আছে। বাসা থেকেই এই তেল কিনে নিয়ে যায়।’

কৃষক রবীন্দ্রনাথ মৃধা বলেন, ‘ধান চাষ থেকে সূর্যমুখী চাষে খরচ বেশ কম। খরচ কম হওয়ায় আমাদের আয় বেশি হচ্ছে। তাছাড়া এই ফসলে সেচ ও পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে। আমরা এই সূর্যমুখী থেকে তেলের পাশাপশি খৈলও পাচ্ছি। খৈল গরুকে খাওয়াতে পারছি। এই তেল খেয়ে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। আমাদের বাইরের ভেজাল তেল কিনে খেতে হচ্ছে না। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাইরেও তেল বিক্রি করতে পারছি।’

oil

এ বিষয়ে বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘সূর্যমুখী লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় বাগেরহাটে ফলন ভালো হয়েছে। আমরা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের সূর্যমুখী চাষের উপকারিতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা কৃষকদের বীজ, সার দিয়ে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করছি। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটের পতিত জমিতে যদি সূর্যমুখী চাষ করা যায়, তাহলে বাহির থেকে তেল আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীতে বারি সূর্যমুখী ৩ জাতের বীজ সব কৃষককে দেওয়া হবে। তাদের বীজ, সার দেওয়ার মাধ্যমে পতিত জমি, ঘেরের আইলে ও বসতবাড়িতে চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করবো। এভাবেই আমরা সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি করবো।’

নাহিদ ফরাজী/এসইউ



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/AWf8t5x
via IFTTT
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post