বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। একই সঙ্গে সারাদেশেও হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই শীত কমানোর যন্ত্রপাতির খোঁজে ভিড় করছেন ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানগুলোতে।
গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত কমানোর যন্ত্রপাতির দোকানে এখন ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। সাধারণ গৃহস্থালি পণ্যের তুলনায় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা এখন বেশি।
বিশেষ করে গিজার, রুম হিটার, গরম বাতাসের ফ্যান, বৈদ্যুতিক কেটলি ও জগ, হটপট, ফ্লাস্ক ইত্যাদি কিনছেন সবাই। দোকান ও নানান শোরুমে ক্রেতারা দরদাম করে পছন্দমতো বেছে নিচ্ছেন এসব পণ্য।

বাইতুল মোকাররম মার্কেটে শীতের জন্য রুম হিটার কিনছিলেন ওসমান গণি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, কখনো ঢাকায় এমন শীত পড়েছে সেটা মনে হয় না। এখন বাচ্চাদের কথা ভেবে রুম হিটার কিনছি। তারা রাতে গায়ে কাপড় রাখতে চায় না। সব সময় ঠান্ডার ভয়ে থাকি।
আরেক ক্রেতা মুনিরা বেগম কিনছিলেন কেটলি। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গরম পানি ছাড়া পরিবারের কেউ গোসল, ওজু কিছুই করতে চাচ্ছে না। গত কয়েকদিনের শীতে বারবার চুলায় গরম পানি করতে হয়েছে। অনেক সময় গ্যাস থাকছে না, সমস্যা হচ্ছে। তাই কেটলি কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
যশোরে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি
পঞ্চগড়ে আজও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
গিজার ব্যবহার কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
যারা সামর্থ্যবান তারা গরম পানির জন্য গিজার কিনছেন বেশি। গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটে গিজার কিনতে আসা সৌহার্দ্য ইসলাম বলেন, মা-বাবা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে গিজার নিতে হচ্ছে।

গত কয়েকদিন শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তাপমাত্রা যতটা কমছে তার চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। সূর্যের দেখাও মিলছে না অনেকটা সময়। হঠাৎ করে এমন ঠান্ডা বেড়ে বেচাবিক্রি বেড়েছে শীত কমানোর যন্ত্রপাতির- এমনটাই জানান বিক্রেতারা।
বাইতুল মোকাররম মার্কেটে গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা এক্সিলেন্সি মার্টের কর্ণধার জুয়েল রানা বলেন, সাধারণত জানুয়ারিতে এমন শীতের তীব্রতা বাড়ে, এবার আগেভাগে শীত বেড়েছে। এতে বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সারা বছর যে পরিমাণে কেটলি, ফ্লাস্ক, হটপট বিক্রি হয়- এখন শীত বাড়ায় একমাসে সে পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতেও গ্রামগঞ্জে পণ্য যাচ্ছে।
রুম হিটারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা টিপস ইলেকট্রনিকসের মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন হিটার ও গরম বাতাসের ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে। দেশি ও আমদানি করা নানান ব্র্যান্ডের পণ্যের বিক্রি বেড়েছে।

বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানের বিক্রয় কর্মীরা আরও বলেছেন, শীতের শুরু থেকে মৌসুমি এসব যন্ত্রের বিক্রি এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে এবার চাহিদা বেড়েছে আরও বেশি। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক ক্রেতার দেখা মিলছে এখন।
আরও পড়ুন
শীতে গরম থাকার ৫ উপায়
শীতের সকালে বাইরে বের হওয়ার আগে যা জানা জরুরি
শীতে শরীর গরম রাখে যেসব খাবার
দেশি ব্র্যান্ড ভিশনের রামপুরা শোরুমের বিক্রয়কর্মী সাব্বির হাসান বলেন, গিজার, রুম হিটার, গরম বাতাসের ফ্যান, বৈদ্যুতিক জগ, ফ্লাস্কের মতো পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়ে এ সময়ে। কিন্তু এখন শীতের তিব্রতার কারণে সেটা আরও বেশি বেড়েছে।
বিশেষ করে ভিশনের গিজার প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা আকর্ষণের পাশাপাশি বিক্রি আরও বাড়াতে ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভিশন শোরুমের আরও কয়েকটি আউটলেটের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে ঘর গরম রাখা কিংবা পানি গরম করার বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি বেড়েছে বেশ। কয়েকটি শোরুমে কিছু পণ্য শেষও হয়ে গেছে।
এছাড়াও আরেক দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন, যমুনাসহ আমদানি করা মিয়াকো, কনকা, নোভা ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রিও বেড়েছে।

গুলিস্তানে মিয়াকো ব্র্যান্ডের একজন আমদানিকারক এসবি ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক এনামুল হোসেন জানান, সারাবছর যে পরিমাণ গিজার, রুম হিটার বিক্রি হয় তার ৫০-৬০ শতাংশই বিক্রি হয়েছে গত কয়েকদিনে।
দাম কেমন
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাড়ে ৩ হাজার টাকায় এক লিটার গিজার মিলছে। এছাড়া ৬৭ লিটার পর্যন্ত গিজার পাওয়া যায়, দাম পড়ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ক্যাপাসিটি অনুযায়ী রুম হিটার এক হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে প্রায় ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরম বাতাসের ফ্যানের দামও এমন।
বৈদ্যুতিক জগ ২০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং কেটলি ও ফ্লাস্ক ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রিয় হচ্ছে। এছাড়া ছোট হটপট ২০০ টাকা থেকে শুরু করে বড়গুলো এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এনএইচ/কেএসআর/জেআইএম
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/cmr7BEw
via IFTTT