অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার উইল পুকোভস্কি তার সাবেক স্কুল ব্রাইটন গ্রামারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০১৪ সালে স্কুলের অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল অনুশীলনে পাওয়া মাথার চোট এবং পরবর্তী সময়ে সেটি সামলানোর ক্ষেত্রে স্কুলের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
একসময় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে প্রজন্মের সেরা প্রতিভাদের একজন হিসেবে বিবেচিত পুকোভস্কি গত বছর মাত্র ২৭ বছর বয়সে চিকিৎসাজনিত কারণে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। তবে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই মাথায় আঘাত ও কনকাশনের কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
ভিক্টোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা মামলার নথিতে পুকোভস্কি দাবি করেছেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বলের আঘাতসহ অন্তত ১৩ বার কনকাশনে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, সেই ১৬ বছর বয়সে স্কুলে পাওয়া প্রথম গুরুতর মাথার চোটের পর তার শারীরিক সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০১৪ সালের মে মাসে একটি ফুটবল অনুশীলনে সতীর্থের হাঁটু পুকোভস্কির বাম কপালের পাশে আঘাত করে। স্লিং ট্যাকলের সময় আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
পুকোভস্কির আইনজীবীদের অভিযোগ, ব্রাইটন গ্রামারের ফুটবল কোচ অ্যালেক্স সিলভান শিক্ষার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে ‘হার্ড’ বা আগ্রাসীভাবে খেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগের সপ্তাহে স্কচ কলেজের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর ওই অনুশীলনটি বিশেষভাবে শারীরিক হবে বলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অচেতন হওয়ার পর পুকোভস্কিকে অনুশীলন থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে কোচ তাকে পরবর্তী ড্রিলে অংশ নিতে পারবেন কি না জানতে চান এবং তিনি আবার মাঠে ফেরেন-এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
পুকোভস্কির আইনজীবীদের দাবি, কোচের জুনিয়র পর্যায়ের অ্যামেচার অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যথাযথ স্বীকৃতি বা প্রশিক্ষণ ছিল না। একই সঙ্গে চোটের পর পুকোভস্কির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মূল্যায়ন বা চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
মামলার নথি অনুযায়ী, মাথায় আঘাতের বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানাতেও স্কুল ব্যর্থ হয়েছিল। ঘটনার পর কয়েক দিন মাথাব্যথা নিয়েই স্কুলে যেতেন পুকোভস্কি। তিন দিন পর একজন জিপি তাকে কনকাশনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেন।
এরপরও তিনি কোচের অনুরোধে সেই সপ্তাহান্তে ব্রাইটন গ্রামারের দ্বিতীয় দলের ম্যাচে ‘রানার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তার মাথাব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং বমিভাব দেখা দেয়। একজন চিকিৎসক পরবর্তীতে তাকে সব ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে ছয় সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন।
পুকোভস্কির আইনজীবীদের দাবি, ২০১৪ সালের সেই চোটের কারণে তিনি ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি, দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেন এবং উদ্বেগ ও ওসিডিসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন। অবসরের পরও দীর্ঘমেয়াদি কনকাশনজনিত ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মোশন সিকনেসের মতো উপসর্গের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
অবশ্য পুকোভস্কির করা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ব্রাইটন গ্রামার ও কোচ অ্যালেক্স সিলভানও এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়ার সুযোগ পাননি।
ব্রাইটন গ্রামারের প্রধান শিক্ষক রস ফেদারস্টন জানিয়েছেন, সিলভান স্কুলের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাই স্কুল এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।
এমএমআর
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/sm1Vh5p
via IFTTT