১২ কিলোমিটার কাঁচা সড়কে ব্যাহত শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা-ব্যবসা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলার বাশতলা ব্রিজ থেকে ঘোলা খেয়াঘাট, ওয়াবদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি বর্ষা মৌসুমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত থাকায় বর্ষাকালে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। জরুরি মুহূর্তে কর্দমাক্ত সড়ক দিয়ে রোগী হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, সড়কটির আশেপাশে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদ্রাসা, আটটি মসজিদ এবং তিনটি খেয়াঘাট রয়েছে। এছাড়া এলাকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ৫০ থেকে ৬০টি মুরগির খামার এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই সড়কটিই একমাত্র ভরসা। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

কর্দমাক্ত রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

স্থানীয় শিক্ষার্থী নাফিজ ও রাজিয়া জানায়, কাদা-জল মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতেও পারে না।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন এবং গৃহিণী রাফিয়া বেগম বলেন, বর্ষাকালে সাধারণ চলাফেরা তো দূরের কথা, লাঠি নিয়েও রাস্তায় হাঁটা যায় না। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য এই রাস্তা এখন আতঙ্কের নাম।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, কাগজে-কলমে উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

পাকা রাস্তা নয় যেন বোরো রোপণের জমি

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় (দিপু) বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তবে তাদের পরিষদের কাছে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সরকারি বরাদ্দ ছাড়া সড়কটি পাকা করা সম্ভব নয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জনভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান হবে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এসজেডএইচ/জেআইএম



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/KYElHCX
via IFTTT
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post