ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ সিসি ব্লকে ৩০ মিটার এলাকায় ধস সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ব্লকের ধসের কারণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দোকান পাট। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সিসি ব্লকে ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশা-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চঘাটও। দ্রুত সিসি ব্লকের ধস বন্ধ না করলে হুমকির মুখে পরবে শহররক্ষা বাঁধও। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে তাদের বসতঘর। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের।
ভোলা পানি উন্নয়ন অফিস তথ্য মতে, ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার ইউনিয়নের সাজি কান্দি থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের জোর খাল পর্যন্ত সিসি ব্লক দ্বারা ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়। এসময় প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়ে গত ১৪ জুলাই ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। উপর থেকে একে একে সিসি ব্লক ধসে পরছে মেঘনা নদীতে। এতে আতঙ্কিত ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধও। এদিকে সিসি ব্লকে ধসের কারণে ওই এলাকার দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. রাজীব জানান, মেঘনা নদীর পানির তীব্র স্রোতে ইলিশার ইলিশা-ঢাকা লঞ্চঘাটের পাশে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই সিসি ব্লকগুলো নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাঙতে ভাঙতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধটিও ভেঙে যাবে। এতে পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজার হাজার বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে প্লাবিত হবে। লক্ষাধিক মানুষ হবে গৃহহীন।
তারা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিসি ব্লক দ্বারা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার কাজ করতো তাহলে ধস হতো না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ ও মো. আরিফ বলেন, ‘তারা বেশ কয়েক বার মেঘনার ভাঙনের কারণে বসতঘর ও জমি জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমানে ইলিশা লঞ্চঘাটের পাশে সরকারি জমিতে বসতঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন। এখন ব্লক ধসের কারণে আতঙ্কিত রয়েছেন তারা।’

তারা আরও বলেন, ‘আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন, তাহলে নতুন করে জমি কেনার মতো সামর্থ্য নেই আর কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই তাদের।’
ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাকসুদ বলেন, ‘ব্লক বাঁধের ধ্বসের কারণে ইলিশা টু ঢাকার বড় লঞ্চঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ওই লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ছোট লঞ্চঘাটে লঞ্চ যাতায়াত করছে। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীদের বেচা-বিক্রি বন্ধ। এছাড়াও ব্লক ধসের কারণে এ ঘাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ যে কোনো সময় দোকান পাট ভাঙনের শিকার হতে পারে। ব্লক ধ্বসের কারণে দুইটি দোকান ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী মো. সাঈদ বলেন, ‘তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই যে ইলিশা বাজার বা অন্য কোথাও গিয়ে লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে দোকান ঘর নিয়ে ব্যবসা করবেন। তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই এ ঘাটে বেচা-বিক্রি দিয়েই সংসার ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।’
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, সিসি ব্লকের ধসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এর মাধ্যমে ইলিশা লঞ্চঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইলিশা ঢাকা রুটের ইলিশায় দুইটি লঞ্চঘাটের মধ্যে বর্তমানে আরেকটি লঞ্চঘাট চালু রয়েছে। এছাড়াও ব্লক ধসের স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫০ মিটার এলাকায় আপাতত প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।
জুয়েল সাহা বিকাশ/কেজে/জেআইএম
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/BuxZYvq
via IFTTT