গত ফেব্রুয়ারিতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে মুক্তি পায় নাটক ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’। পরে মে মাসে নাটকটি বঙ্গর ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশিত হয়। তবে নাটকটির সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক এখনো পাননি বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী পারসা ইভানা।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন নাটকটির নির্মাতা ফরহাদ আহমেদ ইশান। তার দাবি, পারসা তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
গতকাল ফেসবুকে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে পারসা ইভানা লেখেন, ‘সাত মাস ধরে আমি আমার প্রাপ্য পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করছি। শুধু আমি নই, টিমের আরও অনেক সদস্য এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি। আমাকে নির্মাতা কিছু টাকা দিয়েছেন, তবে এখনো পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করেননি। সেটা আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমার টিমের কেউ টাকা পায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলা একজন শিল্পী হিসেবে আমারও দায়িত্ব।’
আরও লেখেন, ‘আমার নিজের টাকা না পেলেও হয়তো আমি মেনে নিতে পারি। কিন্তু যারা দিন এনে দিন খায়, সেই প্রোডাকশন বয়দের কথা? যে ছেলেটা নতুন করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছে, একটা ভালো সুযোগের আশায় কঠোর পরিশ্রম করছে, তার প্রাপ্যটুকু কি সে পাবে না? আমরা নিশ্চয়ই এমন একটি ইন্ডাস্ট্রি চাই, যেখানে সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অসততা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো স্থান সেখানে থাকা উচিত নয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা ফরহাদ আহমেদ ইশান বলেন, ব্যক্তিগত কারণে পারসা ইভানার সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। তার ভাষ্য, ‘পারসা আমার কাছে আরও ১০ হাজার টাকা পাবেন। তার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাকে জানিয়েছি, দ্রুত পাওনা বুঝিয়ে দেব। কিন্তু তিনি হঠাৎ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেছেন, প্রোডাকশন বয়সহ অনেকেই আমার কাছে টাকা পান, যা পুরোপুরি সত্য নয়। দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাইকে আমি পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছি।’
ফরহাদ আহমেদ ইশান
পারসার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে ইশান বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছি। কোনো কাজ করতে পারছি না। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছি। বিষয়টি তাকে জানানোর পরও তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, আমি কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, সেটা তিনি দেখে নেবেন। এ ছাড়া তিনি আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করেছেন। এর ফলে আমি হেনস্তার শিকার হচ্ছি।’
পারিশ্রমিক জটিলতার কারণ ব্যাখ্যা করে নির্মাতা আরও বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে শুটিং শেষ করতে না পারায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর পেছনে পারসারও দায় রয়েছে। জয়দেবপুরে গ্রামীণ পরিবেশে শুটিং করতে গিয়ে ভালো মানের ওয়াশরুম না থাকার অভিযোগ তুলে তিনি অনেক সময় নষ্ট করেন। ফলে তিনটি দৃশ্যের শুটিং না করেই আমাদের ফিরতে হয়। পরে শিল্পীদের শিডিউল মেলানো সম্ভব হয়নি। পারসাও শিডিউল দিচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ওই তিনটি দৃশ্য বাদ দিয়েই নাটকটি মুক্তি দিতে হয়েছে।’
তবে পারসা ইভানা নির্মাতার এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এলআইএ
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/IH0hRY2
via IFTTT